-
- অপরাধ, রাজনীতি, সারাদেশে, স্বাস্থ্য
- খাই খাই আরও খাই, মেম্বার বলে আমিই পাই! খাদ্য সহায়তার তালিকায় ইউপি সদস্যের ৭ স্বজন
- আপডেট সময় April, 22, 2020, 5:27 pm
- 195 বার পড়া হয়েছে
কামাল হোসেন, তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

খাই খাই আরও খাই, মেম্বার বলে আমিই পাই!এই কথা পুরোপুরি মিল পাওয়া যায় তাহিরপুর উপজেলার ৩নং দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সরকারি খাদ্য সহায়তা তালিকায়। জানাযায়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব ও সংকট কালীন সময়ে সরকার অসহায়, হতদরিদ্র, শ্রমজীবি ও কর্মহীন মানুষের জন্য দেয়া খাদ্য সহায়তার তালিকায় ইউপি সদস্য আব্দুল মন্নাফ ওরফে মনা মেম্ববারের নিজ পরিবারের ৭ নামে সরকারি সহায়তার চাল ও আলু নেয়ায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনাটি ঘটেছে তাহিরপুর উপজেলার ৩নং দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে। সম্প্রতি মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি এড়াতে সারাদেশে অঘোষিত লকডাউনের কারণে অসহায়, হতদরিদ্র ও কমর্হীন ঘর বন্দী মানুষের জন্য সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যদের দিয়ে খাদ্য সহায়তার তালিকা প্রস্তুত করে তা উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগকে প্রশ্নবৃদ্ধ কতে উক্ত খাদ্য সহায়তার তালিকায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে তাহিরপুর উপজেলার ৩নং দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সদস্যর আব্দুল মন্নাফ ওরফে মনা মেম্ববার
নিজের আপন ছোট ভাই, আপন ছোট ২ ভাইয়ের ২ স্ত্রীসহ তার নিজ পরিবারের ৭ সদস্যকে অসহায় ও হতদরিদ্র সাজিয়ে সরকারি চাল ও আলু তার নিজ বাড়িতে গেছে। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যর সাক্ষর সাক্ষর ও সীল সম্বলিত তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেইসবুক ওয়ালে প্রকাশিত খাদ্য সহায়তার তালিকায় দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মন্নাফের এমন স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতির আর ওই ওয়ার্ডের প্রকৃত অসহায়, হতদরিদ্র শ্রমজীবি মানুষরা বঞ্চচিত হওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে । ফলে এই নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। ফুসে উঠেছে সরকারের দেওয়া খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়া সাধারণ জনগণ ও অসহায়, হতদরিদ্র ও কর্মহীন পরিবার গুলো। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ফেসবুকে দেয়া তালিকা সূত্রে দেখা গেছে, ইউপি ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মন্নাফ স্বাক্ষরিত ৩৫ জনের নামের তালিকা ৫৫ নং ক্রমিকে ইউপি সদস্যের আপন ছোট ভাই আব্দুল মালেক, ৫৮ নং ও ৬৫ নং ক্রমিকে আপন ছোট দুই ভাইয়ের স্ত্রী সাফিয়া খাতুন ও ছাবিনা বেগম, ৫৬ নং ক্রমিকে বড় ভাই আব্দুর রশিদ, ৫৩ নং ক্রমিকে আপন ভাতিজা মুছা মিয়া, ৫৪ নং ক্রমিকে আপন চাচাতো ভাই ফিরোজ মিয়া, ও ৫২ নং ক্রমিকে আপন ভাগনী সমলা খাতুনসহ একাধিক নামেই রয়েছে তার নিজ পরিবারের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
২নং ওয়ার্ডের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আব্দুল মন্নাফ ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচীত হওয়ার পর থেকেই সরকারী কোন সহায়তা অতিদরিদ্র হয়েও আনাদের ভাগ্যে জুটেনা কোন সহায়তা। যে কোন সরকারী সহায়তা আসলে আগের তার পরিবারের লোকজন প্রাধান্য পায়। তারা বলেন, সম্পতি এলজেএসপি তালিকা করা হয়েছে, শুনেছি এলজেএসপি থেকে ৪ হাজার করে টাকা দেয়া হবে কিছু সংখ্যক দরিদ্রদের। এখানেও(সেখানে) তার পরিবারের বেশীর ভাগ লোকের নাম দেয়া হয়েছে। করোনা সংকটের খাদ্য সহায়তার তালিকায় তার পরিবারের লোকজনের নাম আরও তিনবার দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মন্নাফ এ বিষয়ে বলেন, আমার আত্মীয় স্বজনের মধ্যে ১ নাম দেয়া দেয়া হয়েছে। বাহী ৬ জনের পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সুদুত্তর দিতে পারেননি।
বড়দল দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজাহার আলী বলেন, বিষয়টি চাল বিতরণের আগে আমাকে কেউ জানায়নি। বিষয়টি জানলে আমি ২নং ওয়ার্ডের চাল বিতরণ ¯’গিত রাখতাম।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি এ বিষয়ে বলেন, চাল বিতরণের পূর্বেই নামের তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা হয়েছে। বিষয়টি চাল বিতরণের পূর্বে সেচ্চাসেবক সহ এখানকার মানুষ আমাকে জানায়নি। তবুও এমন অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকাওে দেখা হবে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২২ এপ্রিল ২০২০/ইকবাল
এ জাতীয় আরো খবর